ফুটবল বিশ্বকাপে রেফারি নিয়োগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ফিফা নানা বিষয় বিবেচনা করে। এর মধ্যে দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক সংবেদনশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই আর্জেন্টিনার ম্যাচে ইংল্যান্ডের রেফারিদের দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনা করেছেন পোল্যান্ড, মিশর, রোমানিয়া, কানাডা ও ফ্রান্সের রেফারিরা। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও দায়িত্ব পেয়েছেন পর্তুগালের একজন রেফারি। তবে টুর্নামেন্টে থাকা দুই ইংলিশ রেফারি—মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলর—কেউই আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচে দায়িত্ব পাননি।
বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচ পরিচালনা করা মাইকেল অলিভারকে অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আর্জেন্টিনার ম্যাচে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। একইভাবে অ্যান্থনি টেলরও আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচে বাঁশি বাজানোর সুযোগ পাননি।
এর পেছনে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ। ১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়। ২ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৪ জুন পর্যন্ত চলা ওই যুদ্ধে যুক্তরাজয় জয়ী হলেও দ্বীপপুঞ্জের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি এখনো বজায় রেখেছে আর্জেন্টিনা। সেই সংঘাত দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
এই ঐতিহাসিক বিরোধ ফুটবল মাঠেও প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। পরে আত্মজীবনীতে ম্যারাডোনা লিখেছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে তার মনে ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি কাজ করছিল।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ২০০২ সালে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালে জিতেছে আর্জেন্টিনা। দুই দলের প্রতিটি লড়াইই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আবহের কারণে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
ফিফার রেফারি নিয়োগ নীতিতে নিরপেক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট দেশের রেফারিদের অনেক সময় নির্দিষ্ট দলের ম্যাচ থেকে দূরে রাখা হয়। বিশেষ করে যেসব দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক বৈরিতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত ম্যাচ পরিচালনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা কমিয়ে আনে এবং টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
আরু/


