ফুটবল কখনো শুধু একটি খেলা নয়; এটি একটি দেশের পরিচয়, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার শক্তিও রাখে। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে ছোট্ট আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে সেই বাস্তবতারই দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলেই মাঠের পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কারও নিশ্চিত করেছে দেশটি।
মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের দেশ কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে আলোচনায় আসে। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে অপরাজিত থেকেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে।
শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শক্তির বিচারে অনেক পিছিয়ে থাকলেও কেপ ভার্দে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দেয়। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুইবার সমতায় ফিরে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় তারা। তবে ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নযাত্রার ইতি ঘটে। তবুও এই পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বে কেপ ভার্দের জন্য নতুন সম্মান এনে দিয়েছে।
মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও বড় অর্জন হয়েছে দেশটির। ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের জন্য ফিফা মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিতরণ করছে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। প্রতিটি দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার এবং প্রস্তুতি বাবদ আরও ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার পাচ্ছে। এছাড়া ছোট দেশগুলোর ভ্রমণ, টিকিট ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী, শেষ ৩২-এ উঠে বিদায় নেওয়া দলগুলো পারফরম্যান্স বাবদ আরও ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে। ফলে কেপ ভার্দের মোট প্রাপ্তি দাঁড়াচ্ছে অন্তত ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটির বেশি।
এই অর্থ সরাসরি কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের হাতে যাবে। ভবিষ্যতে ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক দল গঠন, কোচিং ব্যবস্থা এবং দেশের ফুটবল বিকাশে এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছোট্ট একটি দেশের জন্য এটি শুধু অর্থনৈতিক অর্জন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলের ভিত্তি গড়ে তোলার বড় সুযোগও বটে।
আরু/


