চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যার কারণে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের কবরস্থানে নিয়ে দাফন করতে হয়েছে। চারদিকে বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও পারিবারিক কবরস্থান ডুবে থাকায় এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি গত শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের জনার কেঁওচিয়া এলাকায় ঘটে। তবে রোববার (১২ জুলাই) মরদেহ ভেলায় বহনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
মৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ফোরকান (৬০)। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে শুক্রবার বিকেলে তিনি মারা যান। কিন্তু বন্যার পানিতে বাড়ি, আশপাশের সড়ক এবং পারিবারিক কবরস্থান সবই তলিয়ে যাওয়ায় সেখানে দাফন করা সম্ভব হয়নি।
স্বজনরা জানান, প্রথমে কলাগাছ দিয়ে তৈরি ভেলায় মরদেহ বাড়ি থেকে ভাসিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের দস্তিদারহাট এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে গোসল ও দাফনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর রাত ১০টার দিকে ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পাশের একটি সরকারি খাস জমিতে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ফোরকানের বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।
কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফোরকানের বসতবাড়ি, চলাচলের পথ এবং পারিবারিক কবরস্থান সম্পূর্ণ পানির নিচে থাকায় মরদেহ কলাগাছের ভেলায় করে শুকনো স্থানে নিতে হয়েছে। এরপর সরকারি খাস জমিতে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কিছুটা দূরে সরকারি খাস জায়গায় মরদেহটি দাফন করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনকে আগে জানানো হলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সহায়তায় মরদেহ বহন ও দাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো। তাঁর দাবি, ভেলায় করে মরদেহ বহনের প্রয়োজন ছিল না।
সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সাতকানিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আরু/


