খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মো. রনি নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ জুলাই) ভোর রাতে জেলা সদরের সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে, শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তরা পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় স্মৃতিস্তম্ভের বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া মো. রনি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি মনিরের বড় ভাই।
ঘটনার একটি ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে স্মৃতিস্তম্ভে পেট্রল ঢেলে আগুন দিতে দেখা যায়। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের নৈশ প্রহরী সেনময় ত্রিপুরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই যুবক সাংগঠনিক কাজের কথা বলে কলেজে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পরই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খাগড়াছড়ির কর্মী জাহিদ হাসান এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দাবি করেন, এতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক কর্মীরা জড়িত থাকতে পারে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায় কিসলু বলেন, স্মৃতিস্তম্ভে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে মো. রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, নাশকতার চেষ্টা হলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর স্মৃতিস্তম্ভ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরু/


