ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ যমজ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তিন বছর বয়সী শিশু ক্লেইবার মোরানকে (Klieber Moran)। সময়ের বিচারে এই উদ্ধারকে অত্যন্ত বিরল ও অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন উদ্ধারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা।
জর্ডানের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের লস কোরালেস গার্ডেন–১ ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারকাজের ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সতর্কতার সঙ্গে শিশুটিকে বের করে আনতেই উদ্ধারকারীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শিশুটির উদ্ধারকে ‘আশার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজও বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সময় পেরিয়ে গেলেও জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরা হয়। সেই হিসেবে ছয় দিন পর একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা, যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত সপ্তাহে এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ, আর এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে, প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের তীব্র সংকট চলছে। বিশেষ করে লা গুয়াইরায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। যদিও সময়ের সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসে, তবু ক্লেইবার মোরানের অলৌকিক উদ্ধার ভয়াবহ এই দুর্যোগের মাঝেও ভেনেজুয়াবাসীর জন্য নতুন আশার বার্তা হয়ে উঠেছে।
আরু/


