kbctgbd
৬ জানুয়ারি ২০২৫ ৬:১৯ অপরাহ্ণ
সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও মহেশখালী সংযোগ সেতুস্থল বদরখালী সিএনজি স্টেশনের নিকটবর্তী নির্জন প্যারাবনে বাঁশখালী থেকে আসার সময় মহেশখালী উপজেলার এক কিশোরীকে (১৫) দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
৫ জানুয়ারী (রোববার) আনুমানিক রাত ১১টার দিকে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের চকরিয়ার বদরখালী ও মহেশখালী সংযোগ সেতুস্থল উপকূলীয় বেড়িবাঁধের প্যারাবনে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। ধর্ষণের শিকার কিশোরী মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা যায়।
ওই কিশোরীর বরাত দিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে বাড়িতে যাওয়ার পথে গাড়ি নষ্ট হয়েছে বলে বদরখালী সেতুর ওপর অটোরিকশা চালক তাকে নামিয়ে দেন। এরপর কিশোরী পায়ে হেঁটে সেতু পার হচ্ছিল। এ সময় সেতুর পূর্ব অংশে দুজন যুবক তার গতি রোধ কর।
পরে আরেকজন যুবক এসে ছুরি ধরে ভয় দেখিয়ে তার মুখ চেপে ধরে বেড়িবাঁধের প্যারাবনের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে ৭/৮ জন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর কিশোরী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফিরলে সে হামাগুড়ি দিয়ে পাশের সড়কে উঠে চিৎকার দিয়ে লোক জড়ো করে। পরে স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যান।
ওই দিন দিবাগত রাত ১টার (০৬ জানুয়ারী) দিকে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ওই কিশোরী। তার অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়।
এঘটনাটি তাক্ষনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে নিন্দার ঝড় উঠে। বিচারের দাবীতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ৬ জানুয়ারী (সোমবার) দুপুর ১২ টার সময় বদরখালী-মহেশখালী ব্রীজে ব্যারিকেট দিয়ে যান চলাচল বন্ধ দেয় এবং প্রশাসনের কাছে ধর্ষণকারীদের শাস্তির দাবি তুলেন।
এতে দুর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার যাত্রীরা। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার পূর্ব দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দেওয়ার আশ্বস্ত করলে সড়ক থেকে ব্যারিকেট তুলে নেয়নি ছাত্র-জনতা।
কিশোরী বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সাথে তাকে বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কুতুব রানা উক্ত কিশোরীর উদ্ধারকারীদের একজন। তিনি জানান, কিশোরীকে বহনকৃত সিএনজির চালকের নাম সায়মন। এ ঘটনায় ওই সিএনজি চালক জড়িত থাকার দাবি করে তিনিসহ ছাত্র-জনতারা বলেন, বদরখালী এলাকায় এদের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট রয়েছে। ছোটন, শরীফ ও সাকিব নামেরও কয়েকজন যুবক এ সিন্ডিকেটের সদস্য। তারা এ ধরনের অপরাধ করে থাকেন রাত বাড়ার সাথে সাথে।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ধর্ষণের কিছু আলামত পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান।
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।