ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় ধরনের সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি জানিয়েছেন, ফোন কল, মোবাইল অ্যাপ থেকে শুরু করে ঘরের ব্যবহারযোগ্য ডিভাইস পর্যন্ত সর্বত্র এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রিলায়েন্সের বার্ষিক সাধারণ সভায় নতুন কয়েকটি এআই সেবা উন্মোচন করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ‘জিও কল এজেন্ট’। এই সেবা ফোন কলে সরাসরি যুক্ত হয়ে কথোপকথন লিখে রাখতে পারবে, সারাংশ তৈরি করবে এবং বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে। যেমন—ট্যাক্সি বুকিং, খাবার অর্ডার দেওয়া বা অন্যান্য সেবা সংরক্ষণ।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জিওর ৫০ কোটির বেশি গ্রাহকের জন্য চলতি বছরের শেষ দিকে এই সুবিধা চালু হতে পারে। এটি আলাদা কোনো অ্যাপ নয়; বরং সরাসরি টেলিকম নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, ফলে ফোন ব্যবহারের মধ্যেই এআই সুবিধা পাওয়া যাবে।
রিলায়েন্স আরও জানিয়েছে, তাদের ‘মাইজিও’ অ্যাপের নতুন এআই সংস্করণ আনা হচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীরা শুধু নির্দেশ দিলেই ই-সিম চালু করা, রোমিং প্যাক নির্বাচনসহ নানা কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন।
গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য ‘জিও টেলিফ্রেম’ নামে একটি এআই ডিভাইস আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এটি আবহাওয়া তথ্য, দৈনন্দিন কাজের তালিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ মনে করিয়ে দেওয়ার মতো সেবা দেবে।
মুকেশ আম্বানি বলেন, ভারত শুধু বিদেশি প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকবে না; বরং এআই তৈরি ও ব্যবহারে বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে
রিলায়েন্স গত বছর ‘রিলায়েন্স ইন্টেলিজেন্স’ চালুর মাধ্যমে এআই খাতে প্রবেশ করে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও ছোট ব্যবসার জন্য বিভিন্ন ভাষায় এআই সেবা উন্নয়নের কাজ করছে।
এছাড়া এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে গুগল, মেটা ও এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের সঙ্গে অংশীদারত্ব করছে রিলায়েন্স।
তবে ফোন কল ও ঘরের মতো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তথ্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবহারকারীর তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে বা তা এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হবে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিদেশি এআই নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা তৈরির দিকে এগোচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় রিলায়েন্সের পাশাপাশি টাটা, ইনফোসিসসহ আরও বড় কোম্পানিও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
আরু/


