ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে শেষ চারের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও ফ্রান্স। মঙ্গলবারের সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে স্পেনের সাম্প্রতিক দাপটকে সম্মান করলেও দলটিকে ভয় পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ফ্রান্স।
তবে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল, মিকেল মেরিনোসহ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফরাসি শিবির। পাশাপাশি স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণভাগও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দিদিয়ের দেশমের দলের জন্য।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলোর একটি স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেই একমাত্র গোলটি আসে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্য দেখিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।
অন্যদিকে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স আবারও ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। গত সাত বিশ্বকাপে চারবার ফাইনাল খেলা ফরাসিরা অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচের সামর্থ্য দিয়ে স্পেনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায়।
ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে জানিয়েছেন, স্পেনের শক্তিমত্তা সম্পর্কে তারা ভালোভাবেই জানেন, তবে প্রতিপক্ষকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, “কোনো প্রতিপক্ষকেই ভয় পাওয়া উচিত নয়। আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেব এবং আশা করি, শেষ পর্যন্ত ফল আমাদের পক্ষেই যাবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য স্পেনের বিপক্ষে ভালো করতে পারেনি ফ্রান্স। ২০২৪ সালের ইউরো সেমিফাইনাল এবং পরবর্তী নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও স্পেনের কাছে হেরেছে তারা। তবে অতীতের ফল নিয়ে না ভেবে নতুন ম্যাচেই মনোযোগ দিতে চান ফরাসি ফুটবলাররা।
স্পেনের সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম লামিন ইয়ামাল। পুরো বিশ্বকাপে তার গতি, ড্রিবলিং ও গোলের সুযোগ তৈরির দক্ষতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
তবে কোনাতে জানিয়েছেন, শুধু ইয়ামালকে আটকানোর পরিকল্পনা নয়, পুরো স্পেন দলকে নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে ফ্রান্স।
তিনি বলেন, “স্পেন অসাধারণ একটি দল। তাদের অনেক খেলোয়াড়ই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। লামিন ইয়ামাল দুর্দান্ত ফুটবলার, কিন্তু আমরা শুধু একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে পরিকল্পনা করছি না।”
ফ্রান্সের আরেক ডিফেন্ডার ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়ারও স্পেনকে সম্মান দেখিয়েছেন। তবে তার মতে, অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, “তাদের মান সম্পর্কে আমরা সচেতন। তারা শক্তিশালী দল এবং তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সম্মান আছে। কিন্তু আমরাও জিততে চাই।”
তিনি আরও বলেন, ইয়ামালকে আটকাতে দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে। বিশ্বকাপে ইয়ামাল যেভাবে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করেছেন, তা ফ্রান্সের জন্য বড় পরীক্ষা হবে।
স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ও তরুণ প্রতিভার বিপরীতে ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচ জয়ের অভিজ্ঞতা—দুই দলের এই লড়াই তাই শুধু সেমিফাইনাল নয়, দুই ভিন্ন ফুটবল কৌশলের পরীক্ষাও। এখন অপেক্ষা, ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নেবে কোন দল।
আরু/


