বিশ্বকাপে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলের সুযোগ হাতছাড়া করার পর প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন কলম্বিয়ার উইঙ্গার হামিন্তন (জামিন্তন) কাম্পাস। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যে নিরাপত্তার স্বার্থে ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফসিএফ)।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন কাম্পাস। তবে তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্রয়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় সুইজারল্যান্ড। যদিও টাইব্রেকারে কাম্পাস নিজের শটটি সফলভাবে জালে জড়িয়েছিলেন, তবুও অতিরিক্ত সময়ের মিস করা সুযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে এবং তার পরিবারকে লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া শুরু হয়।
ম্যাচ শেষে দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি কাম্পাস। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো খেলোয়াড় বা তার পরিবারের সদস্যদের কখনোই ভয়ভীতি বা হুমকির মুখে পড়তে হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আত্মগোপনে যাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় কাম্পাস বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখেছেন। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশের জার্সির প্রতি তার ভালোবাসা ও নিবেদন কখনো কমেনি।
তিনি আরও লেখেন, ফুটবলে কঠিন মুহূর্ত থাকবেই, কিন্তু কোনো আবেগই ঘৃণা বা ভয়ের কারণ হতে পারে না।
উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করেছিলেন কাম্পাস। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি মিস করা সুযোগই তাকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। ঘটনাটি অনেকের মনে ফিরিয়ে এনেছে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই মর্মান্তিক স্মৃতি, যখন আত্মঘাতী গোলের পর দেশে ফিরে খুন হয়েছিলেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার।
আরু/


