বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ পর্যন্ত মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই চমক দেখায় মিশর। ১৫ মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার কর্নার থেকে ইয়াসির ইব্রাহিমের শক্তিশালী হেডে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি।
পাঁচ মিনিট পর সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু ২১ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া স্পটকিক দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম পেনাল্টি, যার মধ্যে চারটিই তিনি মিস করলেন। একই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের এমন ঘটনা।
প্রথমার্ধে শোবেইর আরও কয়েকটি অসাধারণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে গোলবঞ্চিত রাখেন। ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ ও রদ্রিগো ডি পলের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয় তার দৃঢ়তায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ চালিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে ৬৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে মোস্তফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর, ফলে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দল।
এরপরই শুরু হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। ৭৯ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর দুর্দান্ত এক গোল করে ২-২ সমতা ফেরান অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই ৯০+৩ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী।
আরু/


