শেষ বাঁশির সঙ্গে যেন থেমে গেল এক দীর্ঘ অধ্যায়ের গল্প। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। আর সেই হারেই শেষ হয়ে গেল কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-এর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লালিত বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল।
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে অভিষেকের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সিতে খেলেছেন রোনালদো। এই সময়ে দেশের হয়ে অসংখ্য গোল, একাধিক রেকর্ড এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে পর্তুগালকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেও বিশ্বকাপ শিরোপা আর জেতা হলো না তার।
তবে বিদায়ের মুহূর্তে হতাশার চেয়ে নিজের অর্জন নিয়েই বেশি কথা বলেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, “আমি ২০১৬ সালে ইউরো জিতেছি। আমার কাছে সেই শিরোপার মর্যাদা বিশ্বকাপ জয়ের সমান। সেই অর্জন সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে। আগামীকাল নতুন একটি দিন, জীবন সামনে এগিয়ে যাবে।”
এ সময় তিনি নিশ্চিত করেন, এটিই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ।
রোনালদো বলেন, “হ্যাঁ, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ থাকবে। জীবন চলতেই থাকবে। আমি বিবেকের কাছে নির্ভার থেকে বিদায় নিচ্ছি। ফুটবলে জিততে হয়, আবার হারতেও হয়।”
বিদায়ের বেদনা লুকাতে পারেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “এভাবে বিদায় নিতে হওয়ায় অবশ্যই খারাপ লাগছে। তবে আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মাঠে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। আমরা ভালো খেলেছি, যদিও আরও ভালো করা যেত। স্পেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। আমার বিশ্বাস, তারা ফাইনালে উঠবে কিংবা অন্তত খুব কাছাকাছি যাবে।”
বিশ্বকাপ ট্রফি হয়তো রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের এক অপূর্ণতা হিসেবেই থেকে যাবে। তবে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ নিবেদন, পর্তুগালকে প্রথম আন্তর্জাতিক বড় শিরোপা এনে দেওয়া এবং কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠার যে ইতিহাস তিনি গড়ে গেছেন, তা কোনো একটি ট্রফির সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই অশ্রুসিক্ত বিদায়ের রাতেও রোনালদোর নাম লেখা থাকবে ফুটবল ইতিহাসে—শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়া এক অদম্য যোদ্ধা হিসেবে।
আরু/


