নোয়াখালীতে কর অঞ্চল কার্যালয়ে যোগদান করতে এসে প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩ জন আটক হয়েছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছেন।
রবিবার (২১ জুন) রাত ও সোমবার (২২ জুন) সকালে নোয়াখালীর মাইজদী বাজারস্থ কর অঞ্চল কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কামাল উদ্দিন, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন এবং মো. সুজন। একই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রাশেদ উদ্দিন সন্দেহ টের পেয়ে পালিয়ে যান।
কর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়। পরে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হলে তারা কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
যোগদানের সময় কয়েকজন প্রার্থীর আচরণ ও পরিচয় নিয়ে নিয়োগ কর্তৃপক্ষের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাদের কাগজপত্র ও হাতের লেখা যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা নিজেরা পরীক্ষায় অংশ নেননি; বরং প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে অন্যদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা জানান, ঢাকার একটি জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। চাকরির আবেদনের সময়ই ছবি পরিবর্তন করে এই জালিয়াতি সম্পন্ন করা হয়।
নোয়াখালী কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার এনামুল হোসেন নোমান বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের পরীক্ষা তারা নিয়েছেন এবং প্রার্থীদের চেনেন। সন্দেহ হওয়ায় হাতের লেখা মিলিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর জানান, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
আরু/


