দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলা সদর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু হতে যাচ্ছে।
আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত জনবল এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে এসব ইউনিটের কার্যক্রম রোববার (১৪ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে জেলা পর্যায়েই গুরুতর ও সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং জটিল রোগীরা এখন থেকে নিজ জেলাতেই আইসিইউ সুবিধা পাবেন, ফলে রাজধানী ঢাকা বা বড় শহরে রোগী স্থানান্তরের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
নতুন চালু হওয়া আইসিইউ ইউনিটগুলো স্থাপন করা হয়েছে— মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল এবং বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি আইসিইউ ইউনিটে আধুনিক পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর, মাল্টিপ্যারামিটার মনিটর, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমসহ প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিট পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং টেকনিক্যাল জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব আইসিইউ চালুর মাধ্যমে জেলা হাসপাতালগুলোতে জটিল রোগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে। জরুরি পরিস্থিতি, দুর্ঘটনা, সংক্রমণজনিত রোগ এবং সম্ভাব্য মহামারি মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তারা আরও বলেন, আগে গুরুতর রোগীদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে পাঠাতে হতো, যার ফলে সময়ক্ষেপণ ও ঝুঁকি বেড়ে যেত। এখন জেলা পর্যায়েই উন্নত আইসিইউ সেবা পাওয়ায় রোগীর জীবনরক্ষার সম্ভাবনা বাড়বে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ আরও কার্যকর হবে।
ইআরপিপি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের স্বাস্থ্যখাতে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি, মহামারি ও দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি জোরদার করা এবং জেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পের আওতায় আইসিইউ স্থাপনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরু/


