বৃষ্টির সময় কেন বেশি বেশি দোয়া করতে বলা হয়েছে? ইসলামের আলোকে করণীয়।
ইসলামে বৃষ্টিকে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকতের নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বৃষ্টির সময় এমন একটি বরকতময় মুহূর্ত, যখন বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তাই এ সময় বেশি বেশি দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফারে মনোযোগ দেওয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “দুটি সময়ের দোয়া সাধারণত প্রত্যাখ্যান করা হয় না—আজানের সময় করা দোয়া এবং বৃষ্টি বর্ষণের সময় করা দোয়া।” (সুনানে আবু দাউদ)
বৃষ্টির সময় যে আমলগুলো করা সুন্নত
১. বৃষ্টি শুরু হলে দোয়া পাঠ করা
বৃষ্টি শুরু হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি পাঠ করতেন—
আরবি:اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফি‘আ।
অর্থ: “হে আল্লাহ! এ বৃষ্টিকে আমাদের জন্য উপকারী ও কল্যাণকর করে দিন।”
২. বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানো
হাদিসে এসেছে, বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে উল্লেখ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের শরীরের কিছু অংশ বৃষ্টিতে ভিজিয়ে নিতেন। এ থেকেই আলেমরা বলেন, বৃষ্টির ফোঁটা শরীরে লাগানো সুন্নত ও বরকতময় আমল।
৩. আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা
বৃষ্টি হওয়ার পর এ দোয়া পড়া সুন্নত—
আরবি:مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ
উচ্চারণ: মুতিরনা বিফাদলিল্লাহি ওয়া রহমাতিহি।
অর্থ: “আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি।”
বেশি বেশি দোয়া করার পরামর্শ
ইসলামী শিক্ষায় বৃষ্টির সময় নিজের, পরিবারের এবং সমগ্র উম্মাহর জন্য কল্যাণ, ক্ষমা, রহমত, সুস্বাস্থ্য, হালাল রিজিক ও বিপদমুক্তির দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাই এই বরকতময় সময়কে ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।
ইতি/


