আজ শুক্রবার (২৬ জুন) পবিত্র আশুরা, হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ। মুসলিম বিশ্বের জন্য দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ। মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নফল নামাজ, দান-সদকা এবং জিকির-আসকারের মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন।
‘আশুরা’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘আশারা’ থেকে, যার অর্থ ‘দশ’। মহররমের দশম দিন হওয়ায় এ দিনটি আশুরা নামে পরিচিত। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে সবচেয়ে বেদনাবিধুর অধ্যায় হলো হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদের শাহাদত।
সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অন্যায় ও জুলুমের কাছে মাথা নত না করে ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। কারবালার এই ঘটনা যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। শিয়া সম্প্রদায় এদিন তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
এ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরার শিক্ষা মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা জোগায়।
তিনি বলেন, কারবালায় ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের আত্মত্যাগ মানবজাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরা ইসলামের শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি সবাইকে আশুরার আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজে সম্প্রীতি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্ব আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কারবালার ঘটনা মানবজাতিকে সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে ইমাম হোসেন (রা.) জুলুম ও স্বৈরাচারের কাছে আত্মসমর্পণ না করে শাহাদত বরণ করেছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ কারবালাকে সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রামের চিরন্তন প্রতীকে পরিণত করেছে।
আরু/


