সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নৌবাণিজ্য নিশ্চিত করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা (মেরিটাইম লায়াবিলিটি) কনভেনশনে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে সমুদ্রে তেল দূষণ, জাহাজডুবি ও বাংকার জ্বালানি দূষণের মতো ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি কাঠামোর আওতায় ক্ষতিপূরণ ও দায় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হলো।
রোববার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আইএমওর মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসমর্থনের দলিল (ইনস্ট্রুমেন্টস অব অ্যাকসেশন) হস্তান্তর করেন।
এ সময় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম. নজরুল ইসলাম এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী উপস্থিত ছিলেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ তিনটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনে অনুসমর্থন দিয়েছে। এগুলো হলো— ১৯৯২ সালের আন্তর্জাতিক তেল দূষণজনিত ক্ষতির দায়বদ্ধতা বিষয়ক (সিএলসি) প্রোটোকল, ২০০১ সালের বাংকার তেল দূষণজনিত ক্ষতির দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং ২০০৭ সালের নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের জলসীমা দিয়ে প্রতিদিন শত শত দেশি-বিদেশি জাহাজ চলাচল করে। এসব জাহাজ থেকে তেল নিঃসরণ, বাংকার জ্বালানির দূষণ বা জাহাজডুবির মতো দুর্ঘটনা সামুদ্রিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নৌপথের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। নতুন কনভেনশনগুলো কার্যকর হওয়ার ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনায় দায় নির্ধারণ সহজ হবে এবং জাহাজ মালিকদের বাধ্যতামূলক বিমার আওতায় ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য বিদেশি নৌ প্রশাসনের কাছ থেকে আলাদা কনভেনশন সনদ সংগ্রহের প্রয়োজন কমবে। এতে সময় ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চার্টারার, বীমা প্রতিষ্ঠান ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের জাহাজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। বিদেশি বন্দরে অতিরিক্ত পরিদর্শন ও বাণিজ্যিক বিলম্বও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতে, বিশ্বের শতাধিক দেশ ইতোমধ্যে এসব কনভেনশনের সদস্য। বাংলাদেশের এই অনুসমর্থনের ফলে দেশের সামুদ্রিক আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ নৌপরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, নীল অর্থনীতির বিকাশ এবং দায়িত্বশীল সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
আরু/


