ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় (ইমাম খোমেনি মোসাল্লা) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নিতে শুক্রবার (৩ জুলাই) তারা তেহরানে পৌঁছান।
জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের আমন্ত্রণে প্রতিনিধিদলটি ৩ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরান সফর করবে। সফরকালে তারা খামেনির বিদায়, জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরী আমির মো. কেরামত আলী, মো. নুরুল আমীন, পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, ডা. এস এম খালিদুজ্জামান এবং এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
ইরান সরকার খামেনির জন্য সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজার আয়োজন করেছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। এরপর কুম, ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে শেষ পর্যন্ত মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বও অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জনগণকে ব্যাপকভাবে জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই গণসমাগম ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থন এবং বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে তার দাফন বিলম্বিত হয়। বর্তমানে আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরু/


