চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনি এলাকায় সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবীর বাসায় সংঘবদ্ধ হামলা, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে।
গত ৬ জুন (শনিবার) রাতের এই ঘটনার পর অভিযোগ পেয়েই বৃষ্টির মধ্যে তাৎক্ষণিক অভিযানে নেমেছে খুলশী থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবী দৈনিক টুরিস্ট ও চট্টল চিত্র পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে একটি চিহ্নিত অপরাধচক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুন রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনির ১৬ নম্বর বিল্ডিং এলাকার সামনে মো: জসিম, মো: সবুজ, কন্টাক্টর মনির, শুভ, কালু, মো: আকাশ, মো: শাহিনসহ ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করে। এরপর তারা সাংবাদিক বেবীর বাসার সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নেন। রাতে বৃষ্টির মধ্যেই তিনি পুলিশের একটি বিশেষ টিমকে দ্রুত অভিযানে নামার নির্দেশ দেন।
ওসির নির্দেশনায় এসআই সফিক ও এএসআই মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ দল টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের এই দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপকে স্থানীয় বাসিন্দারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সুজন বাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
সিএমপি কমিশনার জনাব শওকত আলী মহোদয়ের নির্দেশনায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। সাংবাদিক বেবীর অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘সুজন বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, অবৈধ চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এর আগেও ‘চট্টল চিত্র মাল্টিমিডিয়া’ ও ‘সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজে’ এই চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সাংবাদিকের বাসায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় চট্টগ্রামের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এই হামলা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিক বেবী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আরু/



