দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আর্থিক সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা হাজার হাজার আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সংকটাপন্ন এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ বা অবসায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
বন্ধের তালিকায় রয়েছে— এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার আমানতকারীর মোট প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। প্রশাসক নিয়োগের পর প্রথম ধাপে প্রত্যেক আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়নে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ ঋণই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৯৫ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা তাদের কার্যক্রমকে কার্যত অচল করে দিয়েছে।
গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোট নয়টি সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য আরও তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্স।
এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী মূল্যায়নে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কিছুটা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখালেও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় অবসায়নের সিদ্ধান্তে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আরু/



