বিশ্ব ফুটবলে তারকা ফুটবলার জন্ম দেওয়ার দেশ ব্রাজিল। অভাব-অনটনের ঘর থেকেও এই দেশে জন্ম নিয়েছে প্রজন্মের সেরা সব ফুটবলার। কিংবদন্তি পেলে থেকে শুরু করে নেইমার—যখনই সুযোগ পেয়েছেন, হলুদ জার্সিতে হয়ে উঠেছেন দেশের ফুটবল রাজা। সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ জয়ী দেশ হিসেবেও ব্রাজিলের অবস্থান শীর্ষে। তাই বিশ্বকাপ এলেই লাতিন আমেরিকার এই দেশে তৈরি হয় বাড়তি উন্মাদনা।
বিশ্বকাপের রঙ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বজুড়ে। তবে বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে ব্রাজিলের আমাজন অরণ্যের কেন্দ্রস্থল মানাউস শহর। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই শহরটি রূপ নিয়েছে এক বিশাল ফুটবল উৎসবে। প্রায় ২৫ লাখ জনসংখ্যার এই শহর এখন রঙিন সাজে অন্যরকম এক চেহারা নিয়েছে।
শহরের কেন্দ্রস্থলের রুয়া ৩ সড়কে চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার ওপর এঁকেছেন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি কাগজ ও সুতা দিয়ে তৈরি পতাকা ঝুলিয়ে পুরো সড়কে তৈরি করা হয়েছে বর্ণিল ছাউনি। খোলা আকাশের নিচে ছোট ছোট আয়োজনে ভেসে আসছে ব্রাজিলিয়ান সংগীতের সুর, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে উৎসবের আমেজ।
আমাজনের এই শহরে বিশ্বকাপ জ্বর ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম কারিগর ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট আলদ্রি কাস্ত্রো।
তিনি জানান, নিজ দেশ ব্রাজিলকে সমর্থন জানাতেই শহরের মানুষজন এভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
৪২ বছর বয়সী এই ভিজ্যুয়াল শিল্পী বলেন, “বৃষ্টির কারণে আমরা কাজ শেষ করতে পারিনি। এখন গ্রীষ্মকাল শুরু হয়েছে। তাই ধীরে-সুস্থে কাজ করতে পারছি এবং জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত হচ্ছি।”
এই সাজসজ্জার কাজে অংশ নিচ্ছে শিশুরাও। কেউ মইয়ে উঠে পতাকা টাঙাতে সাহায্য করছে, আবার কেউ রাস্তায় ফুটবল খেলছে। রঙিন এই পরিবেশ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় ও আগত দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় স্কুল প্রশাসক পেদ্রো দা সিলভা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে এই সড়কই হয়ে উঠবে স্থানীয় সমর্থকদের মিলনস্থল। এখানেই বসে তারা ব্রাজিলের ম্যাচ উপভোগ করবেন পতাকার নিচে।
আরু/



