জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে প্রায় ২৫ বছর সরকারি চাকরি করার অভিযোগে আলোচিত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামকে অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে জাল সনদ, দুর্নীতি ও সরকারি সুবিধা গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও কেবল বদলির সিদ্ধান্তে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বেবিচকের প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তিরান হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, সিভিল সার্কেল প্রকল্পে কর্মরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামকে পিডিকিউ অ্যান্ড কিউএস সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ওই সার্কেলে সংযুক্ত রেখে পরিচালক (এরোড্রাম স্ট্যান্ডার্ড), এফএস অ্যান্ড আর বিভাগে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান।
এর আগে গত জুনে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০০১ সালে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বেবিচকে নিয়োগ পান শরিফুল ইসলাম।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা ডেটাবেইসে তার বাবার নাম নেই। অথচ চাকরির নথিপত্রে চারটি পৃথক মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, চারটি সনদে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুর তারিখ, আলাদা স্মারক নম্বর এবং বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে। একটি সনদে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর, অন্যটিতে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের, আরেকটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবং অপরটিতে সেক্টর কমান্ডার আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকারি গেজেট ও জাতীয় ডেটাবেইসে তার বাবার নাম না থাকায় এসব সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে জাল সনদের অভিযোগ ছাড়াও শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, কাওলা আবাসিক কোয়ার্টার রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ আত্মসাৎ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত ও মামলা চলমান রয়েছে।
এসব অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় তাকে কেবল এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি করায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তবে তদন্তের অগ্রগতি কিংবা সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বেবিচক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
আরু/


