দক্ষিণ চীনের গুয়াংসি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সাপের খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শত শত সাপ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর মধ্যে বিষধর কোবরা, ক্রেইট, গ্রিন পিট ভাইপার, কিং র্যাটস্নেক ও বিভিন্ন প্রজাতির পানিসাপ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গুয়াংসির হেংঝৌ শহরে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে একটি বড় সাপের খামার প্লাবিত হলে সেখানে থাকা বিপুলসংখ্যক সাপ বেরিয়ে আশপাশের আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই প্রশাসন বাসিন্দাদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয়রা জাল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে সাপ ধরার চেষ্টা করছেন। আরেকটি ভিডিওতে কাদামিশ্রিত প্রবল স্রোতের মধ্যে একটি বিষধর কোবরাকে মাথা উঁচু করে ভেসে থাকতে দেখা যায়। এসব ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর বাড়ির নিচতলা পরিষ্কার করতে গিয়ে একটি কোবরা তাকে কামড় দেয়।
তার ভাষ্য, হঠাৎ করেই একসঙ্গে অনেক সাপ বেরিয়ে আসে এবং তিনি অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি সাপ নিজের চোখে দেখেছেন।
স্থানীয় চিকিৎসকদের দাবি, টাইফুন আঘাত হানার পর থেকে সাপের কামড়ে আহত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও বেইজিং নিউজের এক প্রতিবেদনে সাপের কামড়ে অন্তত একজনের মৃত্যুর দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল এখনো এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে বন্যার কারণে গুয়াংসি অঞ্চলের দুটি জলাধার উপচে পড়ে এবং কয়েকটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একাধিক শহর ও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন, প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির গানসু প্রদেশে ভূমিধসে ২১ জন এবং হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও টর্নেডোয় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
হেংঝৌর জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাপের খামার থেকে পালিয়ে যাওয়া সাপের কামড়ে কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য তারা পেয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছে, বিষধর কোবরা, ক্রেইট ও গ্রিন পিট ভাইপারের মতো সাপ বন্যার পর বাড়িঘর, সিঁড়িঘর, ভবনের কোণা, গুদামঘর ও নদীতীরে আশ্রয় নিতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে নিজেরা সাপ ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত উদ্ধারকর্মীদের খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া হেংঝৌ পিপলস হাসপাতালে অতিরিক্ত অ্যান্টিভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) মজুত করা হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মোতায়েন করা হয়েছে।
আরু/


