ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে আবারও কটাক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, খামেনির দাফন সম্পন্ন করার সুযোগ করে দিতেই যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানকে পুরোপুরি নতজানু করে দিয়েছি। তারা এখন সমঝোতার জন্য মরিয়া। আমরা ভালো মানুষ বলেই তাদের দাফনের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি।”
বক্তৃতায় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কাছে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং তেহরান এখন আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী। যদিও তার এই বক্তব্যের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে শনিবার (৪ জুলাই) সকালে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েক দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে দেশটির বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নগরী নাজাফ ও কারবালাতেও আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
শুক্রবার খামেনির কফিন জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ইরানজুড়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোক কর্মসূচি চলছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও মিত্র গোষ্ঠীর নেতারাও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন জাতীয় শোক পালন করছে ইরান, অন্যদিকে ট্রাম্পের মন্তব্য ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আরু/


