উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ‘নো-কিল’ পশু আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ১১৭টি কুকুরের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার হওয়া কুকুরগুলোর মধ্যে কিছু পচে গেছে, আবার কিছু কঙ্কালসার অবস্থায় রয়েছে। তদন্তে অনেক কুকুরের দেহে গুলির চিহ্নও পাওয়া গেছে।
রোববার (২৮ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
হামবোল্ট কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, ‘মিরান্ডাস রেসকিউ অ্যানিমেল স্যাঙ্কচুয়ারি’তে গণকবর দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। মাটি খুঁড়ে কুকুর পালনে ব্যবহৃত প্রায় ৬০০টি গলার বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রটি থেকে শত শত প্রাণী নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনার পর সম্ভাব্য জালিয়াতি ও পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে আশ্রয়কেন্দ্রটির মালিক ও পরিচালক শ্যানন মিরান্ডা জনসাধারণকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
গত এপ্রিলে হামবোল্ট কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। পশু নির্যাতন ও জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক প্রতিবেশী অনুমতি ছাড়াই আশ্রয়কেন্দ্রের এলাকায় প্রবেশ করে মাটি খুঁড়ে মৃত কুকুর দেখতে পান। এরপর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
শেরিফ উইলিয়াম হনসাল জানান, ২০২৫ সালের শুরু থেকে আশ্রয়কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০টি প্রাণী গ্রহণ করেছে। কিন্তু এই সময়ে মাত্র ১১৬টি কুকুর নতুন মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে ৭০০টিরও বেশি কুকুরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শেরিফের কার্যালয় জানায়, ৫০ একরের খামারজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে ১১৭টি অক্ষত কুকুরের দেহাবশেষ, আরও ২১টি কুকুরের খুলি এবং শত শত হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামতও জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ৭০টি দেহাবশেষের এক্স-রে পরীক্ষায় গুলির টুকরা শনাক্ত হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব কুকুরের অনেকগুলোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে একটি আস্তাবলও পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ মৃত কুকুরের শরীরে পরিচয় শনাক্তের জন্য মাইক্রোচিপ লাগানো ছিল।
অভিযুক্ত শ্যানন মিরান্ডা দাবি করেন, এটি একটি ‘নো-কিল’ আশ্রয়কেন্দ্র ছিল। অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না থাকলে প্রাণীগুলো এখানে পাঠানো হতো। তার ভাষ্য, শুধুমাত্র মরণব্যাধিতে আক্রান্ত বা মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠা প্রাণীদেরই ‘ইউথানেসিয়া’ (ব্যথাহীন মৃত্যু) দেওয়া হয়েছে। জায়গা খালি করার উদ্দেশ্যে কোনো প্রাণীকে হত্যা করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
সূত্র: বিবিসি
আরু/


