ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তের এনএস১ (NS1 Antigen) পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের ফলে জ্বরের শুরুতেই সাধারণ মানুষ বিনা খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে দ্রুত রোগ শনাক্ত, সময়মতো চিকিৎসা শুরু এবং ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, ডেঙ্গু শনাক্তে এনএস১ পরীক্ষা সবচেয়ে কার্যকর। জ্বর শুরুর প্রথম এক থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এই পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা সহজ হয়। এতে রক্তক্ষরণ, শক সিনড্রোমসহ গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এনএস১ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেই ডেঙ্গু নেই—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। রোগের সময়কাল, উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থার ওপর ফলাফল নির্ভর করতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আইজিএম (IgM), আইজিজি (IgG) অ্যান্টিবডি পরীক্ষা, প্লাটিলেট কাউন্ট এবং হেমাটোক্রিট (HCT) পরীক্ষাও করাতে হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, শুধু সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা বিনামূল্যে করলেই যথেষ্ট হবে না বলে মনে করছেন।
তাদের মতে, কমিউনিটি পর্যায়ে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এনএস১ পরীক্ষা চালু করা একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে এর পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা, স্থানীয় ক্লিনিক ও এনজিওগুলোর সম্পৃক্ততা এবং জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করাতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এতে দ্রুত রোগ শনাক্ত হবে এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু পরীক্ষা নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্রুত শনাক্তকরণ যেমন জীবন বাঁচাতে সহায়ক, তেমনি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ডেঙ্গুর বিস্তার কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরু/


