হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের (স্টেন্ট) পুনর্নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করতে দেশের সব হাসপাতালকে নির্দেশনা দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। এ লক্ষ্যে হাসপাতালগুলোর জন্য চারটি জরুরি নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ডিজিডিএ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে হাসপাতালগুলোকে স্টেন্টের নতুন নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আমদানিকৃত বিভিন্ন ধরনের করোনারি স্টেন্টের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের স্মারক অনুযায়ী, ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ-কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় নিয়ে স্টেন্টগুলোর নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন বিশেষজ্ঞ কমিটির সপ্তম সভায় পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ সভার সুপারিশের আলোকে স্টেন্টের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। পরে গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত সপ্তম সভায় মূল্যসংক্রান্ত আপত্তি ও আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাসপাতালগুলোর জন্য দেওয়া ৪ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে— নতুন মূল্য তালিকা হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শন, নির্ধারিত এমআরপি অনুযায়ী স্টেন্ট বিক্রি নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করা এবং কোনো চিকিৎসা প্যাকেজের সঙ্গে স্টেন্টের মূল্য অন্তর্ভুক্ত না করা।
ডিজিডিএ জানায়, আমদানিকৃত বিভিন্ন মডেলের হার্টের রিংয়ের দাম সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এর মধ্যে ‘সিলিন কাভার্ড স্টেন্ট’-এর দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ‘ম্যাগমা র্যাপামাইসিন’ স্টেন্টের দাম ৩৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৮ ধরনের হার্টের রিংয়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা দেয়। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পুরোনো দামেই স্টেন্ট বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এরপর নতুন মূল্য কার্যকর নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোকে এ নির্দেশনা দেওয়া হলো।
আরু/



