বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী রোজিনা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের ক্ষোভ, হতাশা ও অভিমানের কথা প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর যেন তার মরদেহও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে নেওয়া না হয়। পরিবারের সদস্যদের এ বিষয়ে আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন, চলচ্চিত্রাঙ্গনের বর্তমান পরিবেশ এবং নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
রোজিনা জানান, তিনি আর কখনও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে যাবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চিত। তবে এফডিসির সঙ্গে নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, পরিচালক বা প্রযোজক সমিতির কোনো অনুষ্ঠান কিংবা সরকারি আয়োজনে আমন্ত্রণ পেলে সেখানে উপস্থিত হতে পারেন। কিন্তু অন্য কোনো কারণে এফডিসিতে আর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মৃত্যুর পর মরদেহ এফডিসিতে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে রোজিনা বলেন, এটি কোনো সাময়িক অভিমান বা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়। তার ভাষ্য, বর্তমানে সেখানে এমন পরিবেশ নেই, যেখানে শিল্পীরা প্রাপ্য সম্মান ও শ্রদ্ধা পান। আগের মতো মূল্যবোধ ও শিল্পীদের প্রতি সম্মানবোধও আর অবশিষ্ট নেই বলেই তিনি মনে করেন।
শিল্পী সমিতির নির্বাচন প্রসঙ্গে রোজিনা বলেন, প্রার্থী হওয়ার কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না। তবে অভিনেতা জয় চৌধুরীর অনুরোধ ও বারবার অনুরোধের মুখে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হন। কিন্তু পরে যাদের ওপর তিনি আস্থা রেখেছিলেন, সেই প্যানেলের সদস্যদের একটি অংশই তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছে। এমনকি তার নিজের প্যানেলের অনেক সদস্যও তাকে ভোট দেননি। আগে থেকেই কাদের জয়ী করা হবে, তা ঠিক করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজের স্বার্থে তাকে ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে পরে হেয় করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই গুণী অভিনেত্রী।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যেই রোজিনার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরু/


