চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। পুরো অর্থবছরজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলে দেশে এসেছে ৩৫ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৭ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৫ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ৩০ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার। ফলে বছরওয়ারি হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে, গত ২৫ থেকে ২৭ জুন—এই তিন দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তবে জুন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম ২৭ দিনে দেশে এসেছে ২ দশমিক ৪৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২ দশমিক ৪৯৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে জুন মাসে বছরওয়ারি রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জুন মাসে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও তা পুরো অর্থবছরের ইতিবাচক চিত্রকে প্রভাবিত করতে পারেনি। বরং ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অব্যাহত অবদানের কারণেই চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। জুনে সামান্য শ্লথ গতি থাকলেও পুরো অর্থবছরের হিসাব বলছে, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
আরু/


