বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও উৎসাহিত করতে নতুন ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নাগরিকসেবা সম্প্রসারণের এই উদ্যোগের আওতায় আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে কার্ডটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে কয়েকটি দেশে ৫ হাজার প্রবাসীর হাতে পরীক্ষামূলকভাবে কার্ডটি তুলে দেওয়া হবে। এই কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে প্রবাসীদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, চলতি বছরের মধ্যেই দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘প্রবাসী কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রবাসীরা একাধিক আর্থিক ও সেবামূলক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—
- ডুয়েল কারেন্সি সুবিধা
- দেশে ও বিদেশে কার্ড ব্যবহারের সুযোগ
- অনলাইন শপিং সুবিধা
- বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ
- বিমান টিকিট ও হোটেল ভাড়ায় বিশেষ ছাড়
- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মূল্যছাড়
- প্রবাসী সিটি ও আবাসন প্রকল্পে অগ্রাধিকার
- বিএমইটি-সংশ্লিষ্ট বীমা ও পুনর্বাসন সুবিধা
- আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সামাজিক সুরক্ষা
- রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত সরকারি প্রণোদনা
প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বর্তমানে বৈধ পথে পাঠানো রেমিট্যান্সে যে ২.৫ শতাংশ সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়, তা প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য ৩ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই কার্ডটি চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে কয়েকটি দেশে পাঁচ হাজার প্রবাসীকে এই কার্ড দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে আরও প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
মালয়েশিয়া-প্রবাসী পাভেল সারওয়ার সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কার্ডের প্রতিশ্রুত সুবিধাগুলো বাস্তবে কার্যকর হলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরও বেশি মানুষ আগ্রহী হবেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতে বিএমইটি কার্ড নিয়ে যে ধরনের হয়রানি ও জটিলতার অভিযোগ ছিল, নতুন প্রবাসী কার্ডের ক্ষেত্রে যেন সেসব সমস্যা না থাকে।
সরকার মনে করছে, আধুনিক ও ডিজিটাল এই কার্ড চালুর মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য সেবা সহজ হবে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
আরু/


