মোঃ বেলাল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে নুরতাজ বেগম নামে এক নার্স রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। এ সময় তিনি প্রেসক্রিপশনের দেওয়ার মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে আদায় করছেন মোটা অঙ্কের টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন।
ঘটনার শিকার এক রোগী শিরিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিন আগে গাইনি চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে যাই। সেখানে এক নারী আমার সমস্যার কথা শুনে আমাকে ১১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান। পরে নিজেই প্রেসক্রিপশন লিখে দেন এবং সেখানেই প্রস্রাবের টেস্ট করান। সেই সময় আমি জিজ্ঞেস করলে তিনি নিজেকে গাইনি ডাক্তার বলে পরিচয় দেন। এখন পর্যন্ত আমার কাছ থেকে তিনি ৩৪০০ টাকা নিয়েছেন। পরে আবার গেলে তিনি আরও টাকা চান।
শুধু শিরিন আক্তার নন, আরও অনেক রোগী একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের একাধিক নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, নুরতাজ বেগম দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কিছু বলতে গেলে তিনি তেড়ে আসেন বা হুমকি দেন। বিষয়টি আমরা সবাই জানি, কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলে না।
স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী না হন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে (যেমন গাইনি) অনুমোদিত না থাকেন, তাহলে তার দ্বারা চিকিৎসা প্রদান করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, আমাদের হাসপাতালে সপ্তাহে ছয় দিন গাইনি চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন। তারপরও কেউ যদি অনৈতিকভাবে রোগী দেখে থাকে, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে জানতে নুরতাজ বেগমকে ফোন দিলে, তিনি জানান, ডাক্তারের অনুপস্থিতিতেই এই চিকিৎসা দেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল এই বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসার নামে প্রতারণা বরদাশত করা যায় না। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন সাহস না পায়।


