পটিয়ায় চলাচলের পথ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নিজ বাবাকে খুন করে নিরীহ লোকজনকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার পটিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ করেন।
মামলা দিয়ে বর্তমানে চলাচল পথটি বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ কামাল উদ্দীন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে রুনা আকতার লিখিত অভিযোগে জানান, পটিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড মাঝের ঘাটা এলাকার এজাহার মিয়া বাড়ির ৫ পরিবারের চলাচল পথটি প্রতিবেশী নুরুল হকের পুত্র নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা কামাল উদ্দীন বেশ কয়েকবার দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়।
সাবেক পটিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় এ কামাল উদ্দিন চলাচল পথ দখল করতে চাইলেও স্থানীয় লোকের বাঁধার কারণে দখল করতে পারেনি। কিন্তু এ নিয়ে প্রতিবেশীদের সে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। অবশেষ গত ৩০ মে পরিকল্পিতভাবে চলাচল পথ দখল করতে সন্ত্রাসী নিয়ে প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালায়। কামালের পিতা নুরুল হক প্রথমে প্রতিবেশী ফজলুল হককে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এরপর কামাল ও জামাল ফজলুল হককে কুপিয়ে জখম করে।
এক পর্যায়ে ফজলুল হকের স্ত্রী নুর নাহার বেগমকে কামাল উদ্দিন রাম দা’র কোপ দিলে তা কামালের পিতা নুরুল হকের মাথায় লাগে। এতে উভয় পক্ষের ৮/১০ জন আহত হয়। স্থানীয় লোকজন আহতদের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসক নুরুল হক (৬৫) কে মৃত্যু ঘোষণা করে।
ফজলুল হকের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের দুইটি মামলা হয়। জামাল উদ্দীন বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে এদের মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে চাকরিতে থাকা এমরান কাইছার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিজভী ও একটি কোম্পানীর এস. আর আব্দুর রহিম ঘটনাস্থলে না থাকলেও তাদের মামলায় আসামি করা হয়।
রুনা আকতার বলেন, কামাল উদ্দিন একজন জুলুমবাজ ব্যক্তি। বর্তমানে সে নিরীহ লোকদের মামলা দিয়ে চলাচল পথটি দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করছে। ভুক্তভোগীরা কামাল, জামাল এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক নিরীহ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।


