ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কারাগারে থাকা স্বামীকে মুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মামলা হওয়ার পরও অভিযুক্ত নেতাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার আসামি হযরত আলী মণ্ডল (৩৮) ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রচারও চালাচ্ছেন তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মারামারির একটি মামলায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নারীর স্বামী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। এরপর স্বামীকে কারামুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন হযরত আলী।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেন হযরত আলী। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে হযরত আলী বিভিন্ন সময় তাদের বাড়িতে আসতেন। ঘটনার দিনও কয়েকবার বাড়িতে যান তিনি। একপর্যায়ে স্বামীকে মুক্ত করার কথা বলে ওই নারীকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাজি না হওয়ায় ঘরে ঢুকে তাকে জাপটে ধরে বিছানায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই নারী জানান, নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে আগে থেকেই মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ চালু রেখেছিলেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে যেন প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সেই আশঙ্কা থেকেই এমন ব্যবস্থা নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী আরও জানান, তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। স্বামীকে মুক্ত করতে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করার পর আইনজীবীর মাধ্যমে গত সোমবার তার জামিন হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফুলবাড়িয়া থানায় নারী নিজেই মামলা করেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।
ওসি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধর্ষণচেষ্টার দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যায়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হযরত আলী মণ্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরু|



