কক্সবাজার সদর থানার আওতাধীন দক্ষিণ টিককুল এলাকায় একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার জমা দেওয়ার প্রায় ১০ দিন পার হলেও মামলা রুজু হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আসমা উল হুসনা। উল্টো ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রোহিঙ্গা নাগরিক হাসান আহমদ ও তাঁর সহযোগীরা দক্ষিণ টিককুলের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিলখালীর বাদীর বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে বাড়ির ভেতরে ঢুকে ডাইনিং টেবিলের কাচের গ্লাসে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি করেন তাঁরা।
এ সময় পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে স্বর্ণালংকার, গলার চেইন, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। এ সময় হাসান আহমদ ভাঙা লোহার দরজার সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্রে দরজা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশের দৃশ্য রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন আসমা উল হুসনা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় আসমা উল হুসনাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।
তাঁর দাবি, হামলায় তাঁর নাকের হাড় ও দাঁত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, আসমা উল হুসনাকে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর একমাত্র ছেলের ওপরও হামলা চালানো হয়। বাড়িতে থাকা স্টিলের আলমারি, কাঠের আলমারি, শোকেসসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়। এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
এজাহারে ২০ অক্টোবর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দ্বিতীয় দফায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই সময় আরও কয়েকজন সহযোগী নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে নগদ টাকা, আসবাবপত্র, টেলিভিশন, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায়ও বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির দাবি করেছেন তাঁরা।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুই দফায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা বাড়ির মালামাল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং পুলিশের তল্লাশির সুযোগে হামলাকারীরা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও দাবি, আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আসমা উল হুসনা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ভিডিও ও স্থিরচিত্রসহ কক্সবাজার সদর থানায় লিখিত এজাহার জমা দেন। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও প্রায় ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মামলাটি রুজু হয়নি।
এদিকে, এলাকার বাসিন্দা ও বাড়ির ভাড়াটিয়াদের দাবি, বাড়িটিতে পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য নিয়মিত থাকেন না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে।
তাঁদের ভাষ্য, আসমা উল হুসনা ও তাঁর ছেলেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িতে মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ডাকাতির ঘটনায় আহত হাসান আহমদকে কেন্দ্র করে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বার্মিজ ছুরি জব্দ তালিকায় দেখিয়ে আসমা উল হুসনা ও তাঁর ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে লিখিত এজাহার জমা দেওয়ার পরও কেন মামলা রুজু হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
আরু|



