দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। এবার পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান হলো।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উদ্বোধনের পরপরই অনলাইন ও নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একযোগে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষার্থীরা তিনটি উপায়ে নিজেদের ফলাফল জানতে পারছেন। অনলাইনে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত দুটি ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল দেখা যাচ্ছে। ওয়েবসাইট দুটি হলো https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd।
এ ছাড়া নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইন থেকে ফলাফল ডাউনলোড করে প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানার সুযোগ রয়েছে। এ বছর এসএমএসের নম্বর পরিবর্তন করে ১৬১৪০ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের বছরগুলোতে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানা গেলেও এবার নতুন নম্বরে বার্তা পাঠাতে হবে।
এ জন্য মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে একটি স্পেস, বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর এবং পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। যেমন: HSC DHA 123456 2026 লিখে পাঠালেই ফিরতি বার্তায় ফলাফল জানা যাবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড কিংবা পত্রিকা অফিস থেকে সরাসরি ফলাফল সংগ্রহের সুযোগ নেই।
এদিকে প্রকাশিত ফলে সন্তুষ্ট না হলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনের নিয়ম ও বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
প্রথমে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে তা পরিবর্তন করে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। অবশেষে ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো লাখো শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষা।
আরু|



