টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাড়ির পাশের নদী থেকে আওয়ামী লীগের এক নেতার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। তবে তার মৃত্যু ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ, নিহত ব্যক্তি দক্ষ সাঁতারু ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি মরদেহের দুটি চোখ ও একটি কান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
নিহত ইউনুস আল মুর্শেদ (৪৮) মির্জাপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি উপজেলার কাঁঠালিয়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের লৌহজং নদীতে নিয়মিত ধর্মজাল দিয়ে মাছ ধরতেন মুর্শেদ। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলেও মাছ ধরতে নদীর ঘাটে যান তিনি। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে নদীর ঘাটে যান। একপর্যায়ে নদীতে তার ভাসমান মরদেহ দেখতে পান তারা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা শামীনুর মিয়া জানান, ধর্মজাল দিয়ে মাছ ধরতে সাধারণত পানিতে নামার প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়া সন্ধ্যার ঠিক আগেও অনেকে মুর্শেদকে মাছ ধরতে দেখেছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর তার দুটি চোখ ও একটি কান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেখতে পান স্থানীয়রা।
এদিকে পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আফজালুর রহমান ছানু বলেন, মুর্শেদ একজন দক্ষ সাঁতারু ছিলেন। বুকসমান পানিতে ডুবে তার মৃত্যু কীভাবে সম্ভব, তা বোধগম্য নয়।
সব মিলিয়ে, নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, মরদেহের ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থাসহ স্থানীয়দের নানা বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। এটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলের জন্য।
আরু|



