ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি সদস্যকে ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের ১৮ বছর বয়সী ছেলে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইতালীয় পুলিশ হত্যাকারীকে ধরতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে।
নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ (বসুরহাট) এলাকার বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী কামাল হোসেন (বা কামাল উদু), তার ৩৮ বছর বয়সী স্ত্রী আরজু এবং তাদের পাঁচ/ছয় বছর বয়সী কন্যা আলিসিয়া। হামলায় আহত তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ধারালো অস্ত্র নিয়ে এক ব্যক্তি ওই পরিবারের বাসায় প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দম্পতি ও তাদের কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়। প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে সাহায্য চাইতে গেলে ১৮ বছর বয়সী ছেলেকেও ছুরিকাঘাত করে হামলাকারী পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীদের খবর পেয়ে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত তরুণকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
প্রাথমিক তদন্তে ইতালীয় পুলিশের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং হামলাকারী ভুক্তভোগী পরিবারের পূর্বপরিচিত হতে পারেন।
তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাটি বাসার ভেতরে সংঘটিত হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই হামলাকারীর জন্য দরজা খুলেছিলেন। আহত ১৮ বছর বয়সী ছেলে সন্দেহভাজনকে চিনতে পেরেছেন বলেও ইতালীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তিনি ও সন্দেহভাজন একই সুপারমার্কেট চেইনে কাজ করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে রোম পুলিশের স্কোয়াড্রা মোবাইল।
পরিবারটির স্বজনদের বরাত দিয়ে ইতালীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কামাল প্রায় ১৫ বছর আগে ইতালিতে যান। প্রায় তিন বছর আগে তার স্ত্রী ও সন্তানরা ইতালিতে গিয়ে তার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রোমের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরু


