কানাডাভিত্তিক জেকভ ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনে ৩ দিনব্যাপী ফ্রি চোখের ছানি অপারেশন ও চক্ষু লেন্স স্থাপন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে লায়ন্স জেলা ৩১৫ বি৪ বাংলাদেশ, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং সিটি এবং এর ইয়ুথ উইং লিও ক্লাব অব চিটাগং সেঞ্চুরিয়ান পোর্ট সিটি। এছাড়াও সহযোগিতায় ছিল ব্রাদার ক্লাব লিও ক্লাব অব চিটাগং ডায়নামিক সিটি ও লিও ক্লাব অব চিটাগং পোর্ট সিটি।
চট্টগ্রামসহ বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চোখের ছানিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত সচেতন রোগীরা এই সেবা গ্রহণ করতে আসেন। প্রথম দিন থেকেই রোগীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম দিনে রোগীদের নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) এবং প্রয়োজনীয় ফিটনেস পরীক্ষা সম্পন্ন করে অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

দ্বিতীয় দিনে নির্ধারিত সময়ে ছানি অপারেশন শুরু হয় এবং রোগীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশগ্রহণ করেন। তৃতীয় দিনে রোগীদের এক মাসের ওষুধ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শের মাধ্যমে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং সিটি-এর ২০২৬-২০২৭ সেবা বছরের সেক্রেটারি লায়ন ইবনে মিজান। তিনি রোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং চোখের স্বাস্থ্য ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লিও ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩১৫ বি৪-এর ক্লাব রিজিয়ন ডিরেক্টর জনাব প্রীতম মুৎসুদ্দি। তিনি এ ধরনের জনসেবামূলক কর্মসূচি আরও ব্যাপক পরিসরে সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লিও ক্লাব অব চিটাগং সেঞ্চুরিয়ান পোর্ট সিটি-এর জয়েন্ট সেক্রেটারি ও অ্যাডমিন জনাব সাইয়েদ সাকিব জাবের। সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এই কর্মসূচি সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করেন লিও ক্লাব অব চিটাগং সেঞ্চুরিয়ান পোর্ট সিটি-এর সদস্য লিও ইরফান, লিও দিগন্ত এবং লিও ওমর ফারুক।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রোগীদের উচ্ছ্বাস ও সন্তুষ্টি ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাজে চোখের ছানি অপারেশন ও এ-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে ক্লাবগুলোর এমন উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রোগীদের স্বজনরা জানান, এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চোখের ছানিতে আক্রান্ত মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে এমন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা সুন্দর পরিবেশ ও আধুনিক চিকিৎসাসেবার জন্য চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতাল-কেও ধন্যবাদ জানান।
তাদের আশা, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। এতে সমাজের সচেতন মানুষের পাশাপাশি আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোও উপকৃত হবে।
আরু||খব



