টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে আরও দুটি আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩-এর এফ/৫ ব্লকে একটি আশ্রয়কেন্দ্রের ওপর পাহাড়ধস হলে জমির হোসেনের ছেলে নুনু জিয়া (৮) মাটিচাপা পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পসংলগ্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ক্যাম্প-১৩-এর মাঝি সৈয়দ করিম জানান, কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে শিশুটির দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে একই দিন দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে অতিবৃষ্টির কারণে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২০-এর এম-৮ ও এম-৩২ ব্লকে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র বসবাস ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা মো. সাবের (এম-৮ ব্লক) ও হালিমাকে (এম-৩২ ব্লক) নিরাপত্তার স্বার্থে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্র এবং স্বজনদের কাছে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্প সূত্র জানায়, টানা বর্ষণে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিচু এলাকা ও পাহাড়ঘেঁষা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ পাহাড়ধসের ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ঢালের পাশে থাকা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি।
আরু/



