বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা মাঠে গড়ানোর আগেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ (Trionda)। আর এই বল তৈরির নেপথ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান। দেশটির বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনকারী হাব শিয়ালকোট-এ তৈরি হচ্ছে আসন্ন বিশ্বকাপের এই অফিশিয়াল বল।
উন্নত প্রযুক্তি, দৃষ্টিনন্দন নকশা এবং পরিবেশবান্ধব উপাদানের এক অপূর্ব সংমিশ্রণে তৈরি এই বলটি বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলতে শতভাগ প্রস্তুত।
ক্রীড়াসামগ্রী জায়ান্টদের তত্ত্বাবধানে তৈরি ‘ট্রাইওন্ডা’ বলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি।
এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো – বলটির প্যানেল টেক্সচার এবং অ্যারোডাইনামিকস এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা বাতাসে বলের গতিকে সচল রাখে এবং গোলরক্ষকদের জন্য এটিকে অনুমান করা কঠিন করে তোলে।
বলের ভেতরে থাকছে বিশেষ সেন্সর, যা নিখুঁত অফসাইড সিদ্ধান্ত এবং রিয়েল-টাইম ডাটা ট্র্যাকিংয়ে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তিকে সাহায্য করবে।
টেকসই উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ জলভিত্তিক (water-based) কালি ও আঠা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই বল।
পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহরটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল তৈরির রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও বিভিন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে (যেমন: ‘ব্রাজুকা’ বা ‘আল রিহলা’) শিয়ালকোটের তৈরি বল ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় কারিগরদের দক্ষতা এবং থার্মো-বন্ডিং (সেলাইবিহীন জোড়াতালি) প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের কারণেই বিশ্বমঞ্চের জন্য বারবার পাকিস্তানের ওপর আস্থা রাখছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাইওন্ডা কেবল একটি ফুটবল নয়, এটি আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। শিয়ালকোটের নিখুঁত নির্মাণশৈলীর কারণে মাঠের খেলায় ফুটবলাররা পাসিং ও শ্যুটিংয়ে দারুণ নিয়ন্ত্রণ পাবেন।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে ফাইনালের মহারণ—সবখানেই রাজত্ব করবে শিয়ালকোটে তৈরি এই ‘ট্রাইওন্ডা’। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে ফুটবলারদের পায়ে কেমন জাদু দেখায় এই বল!
আরু/



