বাংলাদেশের তৈরি ওষুধ বর্তমানে বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “১৪০টি দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকরা যদি নিজস্ব উদ্যোগে ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারে, তবে এই রপ্তানির পরিসর আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।”
এ সময় বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর সরকারগুলো (স্বাস্থ্য খাতে) কোনো ভেন্টিলেটর, প্রয়োজনীয় মেশিন বা ভ্যাকসিন দিয়ে যায়নি, এমনকি সিরিঞ্জেরও সংকট ছিল। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের (প্রাইভেট এন্টারপ্রেনার) সহায়তায় সরকার হামের মতো বড় বিপদগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, “হামের অ্যান্টিবডি তৈরি হতে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে।”
আসন্ন ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে আক্রান্তের হার কমাতে এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) সরকারকে অনুদান হিসেবে এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) হস্তান্তর করেছে।
এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সেন্ট্রাল স্টোরে ডেঙ্গুর এক লাখ স্যালাইন মজুত আছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার স্যালাইন বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় হঠাৎ আরও স্যালাইনের প্রয়োজন পড়তে পারে, যা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, “জনস্বাস্থ্যকে পুনর্গঠন করতে সরকার কাজ করছে। আমাদের প্রধান কর্মপন্থা হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্টেকহোল্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওষুধ শিল্পকে আরও বিকশিত করতে পলিসি সাপোর্টের চিন্তা করছে সরকার। দেশের মানুষকে সঠিক মূল্যে কিংবা বিনামূল্যে সঠিক ওষুধ পৌঁছে দেয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে সাম্প্রতিক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) জবাব দেওয়ার জন্য আরও দুই দিন সময় বাড়ানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “এই সময় না দিলে তারা আইনি ফাঁকফোকর বা আদালতের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই আদ-দ্বীন হাসপাতালকে আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) তারা জবাব দেবে, এরপর মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আইনানুগভাবে কী কী ব্যত্যয় ঘটেছে এবং কী ধরনের অপরাধ হয়েছে, তার ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারকে কাকে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেবে, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তবে সরকার তার অবস্থানে অনড়। জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার এক বিন্দুও পিছপা হবে না।”
আরু/



