মাথায় হঠাৎ একটি পাকা চুল দেখা গেলে অনেকেই সেটি দ্রুত তুলে ফেলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—একটি পাকা চুল তুলে ফেললে নাকি আরও অনেক পাকা চুল গজিয়ে ওঠে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি চুল ত্বকের নিচে থাকা পৃথক একটি হেয়ার ফলিকল থেকে গজায় এবং প্রতিটি ফলিকল স্বাধীনভাবে কাজ করে। ফলে একটি পাকা চুল তুলে ফেললে পাশের অন্য ফলিকলগুলোর ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। তাই একটি পাকা চুল তুলে ফেলার কারণে নতুন করে আরও পাকা চুল গজানোর আশঙ্কা নেই।
তবে যে ফলিকল থেকে পাকা চুলটি উঠেছিল, সেখান থেকে পরবর্তীতে যে নতুন চুল গজাবে সেটিও সাধারণত পাকা বা ধূসরই হবে। কারণ ওই ফলিকলের মেলানোসাইট নামের রঙ উৎপাদনকারী কোষগুলো ইতোমধ্যে কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। চুল তুলে ফেললে এসব কোষ আবার সক্রিয় হয়ে যায় না।
২০২৫ সালের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, একটি পাকা চুল তুলে ফেললে আশপাশের চুল পাকার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বারবার একই জায়গা থেকে চুল টেনে তুললে হেয়ার ফলিকলের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হতে পারে। এতে ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রঙ উৎপাদনকারী কোষও দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, নিয়মিত চুল টানার অভ্যাসের ফলে মাথার ত্বকে লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফলিকল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওই স্থানে চুল গজানোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা নতুন চুলের গঠন পরিবর্তনের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
তাই পাকা চুল নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে তা তুলে ফেলার বদলে ছেঁটে ফেলা বা প্রয়োজন হলে চুলে রঙ ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাকা চুল বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য ও শারীরিক নানা পরিবর্তনের স্বাভাবিক একটি অংশ বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।
আরু/


