সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বা মেসেঞ্জার খুললেই ইদানীং অনেকের ফোনে ভেসে আসছে একটি নতুন ধরনের নোটিফিকেশন— “Find a missing child in your area” (আপনার এলাকায় নিখোঁজ শিশুকে খুঁজুন)। অনেক ব্যবহারকারী একে সাধারণ বিজ্ঞাপন বা স্ক্যাম হিসেবে ভুল করলেও, মূলত এটি নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে পুলিশের একটি অত্যাধুনিক ও যুগান্তকারী ডিজিটাল নিরাপত্তা উদ্যোগ। এর নাম ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা সংক্ষেপে ‘মুন অ্যালার্ট’ (MUN Alert)।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের খুঁজে বের করতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে এই কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
কীভাবে কাজ করে মুন অ্যালার্ট?
মুন অ্যালার্ট মূলত একটি অবস্থানভিত্তিক (Location-based) সতর্কতা ব্যবস্থা। এর কার্যপদ্ধতি তিনটি মূল ধাপে বিভক্ত:
- ১. তথ্য গ্রহণ: শিশু নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথে পরিবার বা সংশ্লিষ্টরা পুলিশ বা নির্ধারিত হেল্পলাইনে বিষয়টি অবহিত করেন।
- ২. যাচাই ও সতর্কতা: পুলিশ প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিখোঁজ শিশুর ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ একটি আনুষ্ঠানিক ডিজিটাল অ্যালার্ট তৈরি করে।
- ৩. নোটিফিকেশন প্রদান: প্রযুক্তিগত সহায়তায় সেই নিখোঁজ শিশুর শেষ অবস্থানের আশপাশের ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীদের ফোনে সরাসরি নোটিফিকেশন পৌঁছে দেওয়া হয়।

সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে এটি কতটা কার্যকর?
সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো তথ্য ভাইরাল হতে সময় লাগে, কারণ এটি ব্যবহারকারীদের শেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ‘মুন অ্যালার্ট’ সরাসরি ফোনের নোটিফিকেশন হিসেবে আসায় তা মুহূর্তের মধ্যেই ওই এলাকার হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি সমন্বিত ও দ্রুত যোগাযোগের পথ তৈরি হয়েছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এর আওতায় ২৪ ঘণ্টা সচল একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর— ১৩২১৯ চালু করা হয়েছে। যে কেউ যেকোনো সময় এই নম্বরে কল করে নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত তথ্য জানাতে পারবেন।
বর্তমানে এই কার্যক্রমটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এটি শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তবুও প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সব এলাকায় এর সুফল সমানভাবে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তির এই ব্যবহার ভবিষ্যতে নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের উদ্ধার কার্যক্রমে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
আরু/



