মহাকালের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিনি ভবিষ্যৎবাণী করে গেয়েছিলেন, এই সোনায় আমার সোনার ছেলেরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ শাসন করবে, তারা দেশের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে,তারা দেশকে সংস্কার করার কাজে এগিয়ে আসবে, দুর্নীতির স্বজন প্রীতিসহ সবধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে প্রতিরোধ করবে এইদিন আর বেশী দুরে নয়, হয়তোবা আমি তাদের সফলতা দেখে যাইতে পারবোনা তবে দেশের মানুষ সুফল ভোগ করবে।
এই কথা বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে উনার দুরবস্থার সময়ে তিনি আক্ষেপ করে বিবেক তাড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন। আজ বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু উনার কথা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবতা নিরিখে বাস্তবায়নের পথে, বঙ্গবন্ধুর দল এবং তারাই কন্যা সোনার বাংলার সোনার ছেলেদের কাছে পরাজিত বরণ করে দেশ ছেড়ে বা ছাড়তে বাধ্য হয়ে চলে গেছে, তাতে দেশের সকল স্তরে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, এই দেশের মেধাবী ছেলেরা কোটা বিরোধী আন্দোলনের সুচনা করলেও কিন্ত এই আন্দোলন গঙ আন্দোলন রুপান্তর হয়ে পুরো জাতি জেগে উঠেছ।
আজকে সাধারণ মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে এই দেশের বিপ্লবী ছাত্র সমাজ, তারা আজ শুধু সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন করেনি তাদের চিন্তা চেতনার মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছি আমরা তারা কি চেয়েছিলো। একটি সুন্দর সমাজ একটি সুন্দর দেশ এবং সকল ধরনের বৈষম্যের অবসান গণতন্ত্রের চর্চা করণসহ প্রতিটি বিষয় আমরা ঠের পাচ্ছি। তাদের আন্দোলনের সুযোগে দেশে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে, তার জন্য বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা দায়ী নয়।
এই গুলো করছে একধরনের লুঠপাটকারি ও দুর্বৃত্তরা, দেখেন ছাত্ররা রাজপথে আন্দোলন জোরদার যেমন করেছিল সেই রাজপথে তারা সড়ক পথ নিয়ন্ত্রণ করছে কতসুন্দর করে, কিভাবে যানজট নিরসন করতে হয় এই কোমলমতি ছাত্ররা পুরো জাতিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি। বর্তমান পুলিশ প্রশাসন থানায় নেই, বা কোন জায়গা নেই, তারা তাদের নিরাপত্তা ও পুলিশের মধ্য সংস্কারের প্রয়োজনীতা দাবী করে সব ধরনের ডিউটি থেকে বিরত থেকেছে, হয়তো এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে অচিরেই।
দেশ একটি সেনা সমর্থিত অস্থায়ী সরকার গঠন হচ্ছে, তাদের হাতে দেশের ক্ষমতা চলে যাবে, কিন্তু চলেগেলেও এই বিপ্লবী ছাত্র সমাজ তাদের মতামতে প্রতিফলন ঘটাবে, তারা যেই অঙ্গীকার নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করে সরকার পতন ঘটিয়েছে তার থেকে তারা এক চুলও সরে আসেনি, তাদের চিন্তার প্রতিফলন বাস্তবে বাস্তবায়ন করতে চাই তাদেরই মনোনীত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের মাধ্যমে, ড. ইউনুসকে এই চরম মুহূর্তে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধিষ্ঠিত করতেছে এবং করছে বল্লেও ভুল হবেনা, ড. ইউনুস প্রধান উপদেষ্টা তা চুড়ান্ত। ড. ইউনুস শুধু তাদের মনোনীত নয় তিনি কিন্তু বহি বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্র গুলোরও মনোনীত, ড. ইউনুসের উপর নির্ভর করছে আমাদের দেশ এবং জাতির ভবিষ্যৎ।
এই দিকে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর যে-ভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা হচ্ছে তা কিন্তু কাহারো জন্য কাম্য নয়। প্রতিদিন বিভিন্ন স্হানপ মন্দির ভাঙচুর সহ বহুধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করছে। তা কারা করছে এই গুলো নির্ণয়ে সময় এসেছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভাস্কর্য এবং নামফলক খুবই অপমান করে ধ্বংস করা হচ্ছে। এই কাজ গুলো কোন সভ্যমানুষের কাজ হতে পারেনা। বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা এক জিনিস নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের স্বাক্ষী ও প্রতিক,তিনি বাঙালি জাতির ঠিকানা, তিনি আমাদেরকে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছেন তা আমাদের চেতনার মাধ্যমে ধারণ করতে হবে।
শেখ হাসিনার হাজারো ভুল থাকতে পারে বা রয়েছে অথবা ভুল করেছ, তার জন্য থাকেতো শুধু রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা নয়, দেশ থেকেই চলে যাইতে হয়েছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু বিষয়টি সম্পুর্ণ ভিন্ন।আমি আশা করবো দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী এবং দেশ প্রিয় ছাত্র জনতা তা বাস্তবতা নিরিখে অনুধাবন করে এই ধরনের অপ্রিয় ঘটনা গুলো দমন করা উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার যাবে সরকার আসবে কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে আপোষ করা যাবেনা। যেভাবে চুরিডাকাতি রাহাজানি বৃদ্ধি পেয়েছে তা জরুরি ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, না হয় আমাদের কোমলমতি মেধাবী ছাত্রদের আন্দোলনের ফসল নিস্ফল পরিনত হবে। আমরা এই আন্দোলনের সুফল অর্জন করতে চাই তা নিয়ে ছাত্র জনতা এগিয়ে আসার সময়ের সাহসী পদক্ষেপ বলে মনে করি।
লেখকঃ সাংবাদিক, গবেষক, টেলিভিশন উপস্থাপক।



