সুদর্শন আচার্য্য,মদন নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
কয়েকদিনের ভারিবৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার মদন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত পানিবন্দী অহস্থা রয়েছে ৩৪ টি গ্রামের ১ হাজার ৬২০ পরিবার। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে নিম্ন আয়ের পরিবার গুলো।
ভারিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধনু, মগড়া,বালই, ধলাই, বর্নি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উপজেলার প্রত্যেকটি হাওড়ে পানি বাড়ছে। এতে করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্টোল রুম ও মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হাওড় পাড়ের প্রাম মাঘান, নয়াপাড়া, পদারক, চত্রমপুর, জঙ্গল ডেমার গাতি, গোবিন্দশ্রী গুচ্ছগ্রাম, শান্তিপাড়া, রাজালিকান্দা, কদমশ্রী, বাগধাইর, বরিকান্দি, তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাগজান, বালালী, ধুবাওয়ালা, ভাবানীপুর, বৈঠাখালি, লাছারকান্দা, দেওসহিলা, ফতেপুর গুচ্ছ গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও চারিদিকে পানি থাকায় লোকজন বের হতে না পেরে নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছে বিপাকে।
মাঘান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম খান মাসুদ জানান, আমার ইউনিয়নের প্রায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। আমি উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখছি। খাদ্য সংকট দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার তালুকদার জানান, আমার ইউনিয়নের বিয়াশি ও ফতেপুর গুচ্ছ গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৩০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। আমি সার্বক্ষনিক তাদের খোঁজ খবর রাখছি। কোন পরিবার যাতে খাদ্য সংকটে না পড়ে তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখছি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহ আলম মিয়া বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মদন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১ হাজার ৬২০ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে বলে খবর পেয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্টোলরুম, মনিটরিং টিম, মেডিকেল টিম, ত্রাণ বিতরণ টিম গঠন করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি ও দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।


