মো খোকন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের জানাযা শেষে দাফন সম্পূর্ণ হলো। তাদের সবাইকে একই সারিতে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার(১ মার্চ) বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ার সৈয়দ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে বিকেলে সোয়া ৩টায় চারটি অ্যাম্বুল্যান্সযোগে পাঁচটি মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। পরে আসর নামাজের পর স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
নিহতরা হলেন জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে ইতালি প্রবাসী সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউসার (৫০), তার স্ত্রী স্বপ্না (৩৫), মেয়ে কাশফিয়া (১৭) ও নুর (১৩) এবং ছেলে আব্দুল্লাহ (৭)। তারা রাজধানীর মধুবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউসার (৪২) দীর্ঘদিন ইতালিতে ব্যবসা করতেন। মাসখানেক আগে ইতালি থেকে দেশে এসেছিলেন তিনি। ইতালিতে স্থায়ীভাবে (গ্রিন কার্ড) থাকার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি স্ত্রী ও তিন সন্তানদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ভিসাও হয়ে গিয়েছিল সবার। কিন্তু ইতালি আর যাওয়া হলো না তাদের। বেইলি রোডের আগুনে পুড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ মারা গেছেন মোবারক (পরিবারের ৫ সদস্যের মৃত্যু)।
নিহত কাউসারের চাচাতো ভাই সৈয়দ আবুল ফারাহ তুহিন জানান, দেড় মাস আগে ইতালি থেকে দেশে ফেরেন কাউসার। বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। সেখানে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কাউসার, তার স্ত্রী স্বপ্না, মেয়ে কাশফিয়া ও নূর এবং ছেলে আব্দুল্লাহ নিহত হন। ঘটনাটি একেবারে মর্মান্তিক। পরিবারটি শেষ হয়ে গেলো। এরকম দুর্ঘটনা যেন আর কারো পরিবারের না হয়।
মরদেহগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসার পর বাদ আসর জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে। নিহত সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউসার পরিবারের তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বেইলি রোডে একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। এতে অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।


