সাইফুল ইসলাম তানভীর, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে উর্বর এবং অপেক্ষাকৃত উঁচু কৃষি জমির কারণে প্রতি বছর বাড়ছে পেঁপের আবাদ। আর এই পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে বিদেশ ফেরত এবং দেশের শিক্ষিত যুবকসহ হাজারো চাষী। এছাড়া অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় নিয়মিত চাষীদের সঙ্গে চাকরিজীবী এবং অন্যান্য পেশায় নিযুক্ত অনেকেই সহায়ক উপার্জনের পথ হিসেবে পেঁপে চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্যমতে সিংগাইরে এবছর ৭৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের পেঁপে চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে সিংগাইর থেকে প্রায় ১শত কোটি টাকারও বেশি পেঁপে বিক্রির আশা এ উপজেলা থেকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিংগাইর এলাকাটি তুলনামূলক একটু উঁচু হওয়ায় সবজিজাত পণ্য চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেশি। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে গাছের পেঁপে তোলা পর্যন্ত বিঘাপ্রতি ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। দাম ভালো থাকলে বিঘা প্রতি দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বেশি পেঁপে বিক্রি করা যায়। যার কারণে এই উপজেলার প্রায় সব কয়েকটি ইউনিয়নেই কম বেশি পেঁপের আবাদ হয়ে থাকে।

অপরদিকে চাষীদের পেঁপে জমি থেকে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে জমি থেকেই পেঁপে নিয়ে যায়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলার সঙ্গে সিংগাইরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়াতে এ অঞ্চলের পেঁপের কদর রয়েছে সর্বত্র। সিংগাইরে উৎপাদিত পেঁপে জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়ে থাকে।
উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের বাহাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং গোলাইডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পেঁপে চাষী আমজাদ হোসেন হোসেন (৩৭) বলেন, আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি ৩/৪ বছর যাবত পেঁপে চাষ করে আসছি। এতে আমি ভালোই লাভবান হয়েছি। এ বছরও ৪ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছি। পেঁপে মাত্র বিক্রি শুরু করেছি। বর্তমানে পাইকারি বাজারে মনপ্রতি ১৫-১৬শত টাকা দরে পেঁপে বিক্রি করছি। বর্ষায় ক্ষতি না হলে এবছরও প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার মতো পেঁপে বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের পেঁপে চাষী মোঃ মাসুম (৩৮) বলেন, লেখাপড়া বেশি দূর করা হয়নি । ছোট খাটো ব্যবসা করতে ডসয়ে সফল হতে পারেনি। এখন আমি পেঁপে চাষ করছি। এ থেকে উপার্জিত অর্থে চলে আমার পুরো সংসার। চলতি মৌসুমে ৮ বিঘা জমিতে পেঁপের আবাদ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৪লাখ টাকা। বিক্রি মাত্র শুরু হয়েছে। জমি থেকেই পাইকাররা পেঁপে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি বাজার ভালো থাকলে এবছর প্রায় ১৫-১৬ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবো।
একই এলাকার পেঁপে চাষি হোসেন বেপারীর (৫২) বলেন, গাজরের পাশাপাশি আমাদের এই অঞ্চলে এখন পেঁপে চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। প্রতি বিঘায় সব মিলে আমাদের খরচ প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আর বিঘায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ গাছ লাগানো যায়। মৌসুমের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি কেজি পেঁপে পাইকারি বিক্রি হয় গড়ে ২০ থেকে ৪০ টাকায়। আর পাইকাররা খেত থেকে কিনে নিয়ে যায় বলে আমাদের তেমন কষ্ট করতে হয় না।
পেঁপে কিনতে আসা পাইকার সোহরাব হোসেন বলেন, সিংগাইরে প্রচুর পরিমাণে সবজির আবাদ হয়ে থাকে। একেক মৌসুমে ভিন্ন ভিন্ন সবজির আবাদের কারণে এই অঞ্চলের সবজির কদর দেশ জুড়ে। বর্তমানে আমি প্রতিদিন কিটিংচর কঁাজা মালের আড়ৎ ও জয়মন্টপ বাজার থেকে পেঁপে কিনে তা ঢাকা ও গাজীপুরে বিক্রি করছি। সিংগাইরের পেঁপের স্বাদ ও আকার ভালো হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। এছাড়া আড়তগুলোতে খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।



