খন্দকার মহিবুল হক, জেলা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), কুমিল্লা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘পার্টিসিপেটরি অ্যাকশন এগেইনস্ট করাপশন:
টুওয়ার্ডস ট্রান্সপারেন্সি এন্ড একাউন্টেবিলিটি (প্যাকটা)’ প্রকল্পের আওতায় গতকাল ০৪ জুন ২০২৪, মঙ্গলবার, সকাল ১১:০০ টায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লা ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবাগ্রহীতাদের অংশগ্রহণে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
সনাক কুমিল্লার এসিজি (স্বাস্থ্য) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর সমন্বয়ক দিদারুল হক রিমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গুণশুনানিতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সভায় সহকারী পরিচালক ডা: নিশাত সুলতানা। গণশুনানির লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য উপস্থাপন করেন টিআইবি এর এরিয়া কো-অর্ডিনেটর প্রবীর কুমার দত্ত। সনাক কুমিল্লার স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটি আহবায়ক ও সনাক সদস্য বদরুল হুদা জেনু পরিচালনায় গুণশুনানিতে অংশ নিয়ে সেবাগ্রহীতা নাজমুল হুদা ট্রলী ও এক্সরের অনিয়ম সম্পর্কে সভায় অভিযোগ করেন। রাশেদা আক্তার টাকার বিনিময়ে রোগীর লাইনের সিরিয়াল দেওয়ার কথা বলেন। শিল্পী বেগম হাসপাতালের নিরাপদ পানির সংকটের কথা তুলে ধরেন। মিডিয়া কর্মী তৌহিদ টিকেট নিয়ে হয়রানি বন্ধে ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন। সাংবাদিক আবু সুফিয়ান অপারেশন টিয়েটারে বহিরাগত ব্যক্তি কাজ করেন বলে অভিযোগ করেন, তিনি বলেন হাসপাতালে কর্মরত অনেকেই পোশাক ও আইডি কার্ড ব্যবহার করেন না। তাছাড়া ছাড়পত্রে দায়িত্বরত চিকিৎসকের সাইন দেয়না বলে অভিযোগ করেন। ছাত্র প্রতিনিধি মো: নাজমুল হুদা রোগী বহনের জন্য পর্যাপ্ত হুইল চেয়ার এর ব্যবস্থা ও এক্সরে রুমে দায়িত্বরতদের উপর নজরদারী বাড়ানোর দাবী জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়েহাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: মো: শাহজাহান পর্যাপ্ত হুইল চেয়ার ও নিরাপদ খাবার পানি দ্রুত ব্যবস্থার তাৎক্ষনিক নির্দেশনা দেন। এছাড়াও তিনি-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু ও ট্রলী সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি জানান ইতিমধ্যে ওটিতে দায়িত্বে অবহেলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নির্ধারিত পোশাক ও আইডি কার্ড ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি সনাক এর সহযোগিতার বাস্তবায়িত কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।
সনাক সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালী গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার মান আরো কিভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সেই উদ্দেশ্যে এই আয়োজন। তিনি সকল ধরনের ইতিবাচক কার্যক্রমে সনাকের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান। গণশুনানিতে সনাক সহ-সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায়, সনাক সদস্য অধ্যাপক বিজয় কৃষ্ণ রায়, বিভিন্ন ওয়ার্ডের ডাক্তার, নাসিং সুপারভাইজার, ওয়ার্ড মাস্টার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের সেবাদানকারী ও গ্রহণকারী প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, টিআইবি’র ইন্টান, এসিজি সদস্য ও ইয়েস প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


