সাইফুল ইসলাম তানভীর, আঞ্চলিক প্রতিনিধ, মানিকগঞ্জ:
জেলেদের চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগ, প্রিন্ট মিডিয়ায় নিউজ, অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন। আর সেই অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এবং তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাল না দেওয়া জেলেদের কয়েকজনকে ডেকে চাল বিতরণ করছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউপির অভিযুক্ত চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মজিদ। চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোকদের দিয়ে জেলেদেরকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত ৮০ কেজি স্থলে ৩০ কেজির এক বস্তা করে চাল বিতরণ করেছেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরে চাল আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার রহমান। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং অভিযোগ ধামাচাপা দিতে চালা, বাবুপুর, দিয়াবাড়ী ও কল্যাণপুর গ্রামের ১৫-২০ জন জেলেকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মজিদ। তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইজন ইউপি সদস্য বলেছেন, এপ্রিল মাসের ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ শেষ হয়নি। এছাড়া, মে মাসের চালও বরাদ্দ হয়েছে। ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির সেই চাল থেকে জেলেদের ৩০ কেজির এক বস্তা করে চাল দিচ্ছেন চেয়ারম্যান।
চালা গ্রামের এক জেলের নাম এ বছরের বিতরণকৃত দুই তালিকাতেই রয়েছে। কিন্তু তাকে চাল দেওয়া হয়নি। তদন্ত কমিটি গঠনের পরে তাকে ডেকে নিয়ে ৩০ কেজির এক বস্তা চাল দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণের কথা স্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, সোমবারও কল্যাণপুর গ্রামের ১১ জনকে চাল দিয়েছি।
এতদিন পরে জেলেদেরকে চাল দিচ্ছেন কেন-জানতে চাইলে তিনি বলেন, মার্চে বরাদ্দ চাল আমি জুন মাস পর্যন্ত দিতে পারবো। আগে দেইনি, এখন দিচ্ছি। ৮০ কেজির জায়গায় ৩০ কেজি কেনো দিচ্ছেন এবং ভিডাব্লিউবি এর বরাদ্দ থেকে চাল দিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। আর চাল বিতরণের বিষয়ে আমি অবগত নই।


