সাইফুল ইসলাম তানভীর, আঞ্চলিক প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) :
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে পদ্মা নদীর তীর রক্ষা অস্থায়ী বাঁধের কয়েকটি স্থানের জিও ব্যাগ ধ্বসে পড়েছে । এছাড়াও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কুশিয়ারচর এলাকায় আপদকালীন সময়ের ফেলা জিও ব্যাগও এখন নদীতে। এতে নতুন করে আতংক দেখা দিয়েছে পদ্মা তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মেরামত করা না হলে আরও বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
২৬ মে (রোববার) মধ্য রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ায় পদ্মার ঢেউয়ে সোমবার বিকেলের দিকে সদ্য নির্মিত অস্থায়ী বেরিবাঁধে এই ধসের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জানা যায়, হরিরামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নই নদী ভাঙন কবলিত এলাকা। এছাড়াও ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সুতালড়ী, আজিমনগর ও লেছড়াগঞ্জ এই তিনটি ইউনিয়ন সত্তর দশকে নদী গর্ভে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে সেখানে চর জেগে ওঠলে অল্প কয়েক বছর পূর্ব থেকে সীমিত পরিসরে লোকজন বসবাস শুরু করছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে নদীর তীর রক্ষায় অস্থায়ী বাঁধের কাজ চলছে। এর ধারাবাহিকতায় উপজেলার ধূলশুড়া, হারুকান্দি, বয়ড়া রামকৃষ্ণপুর, গোপীনাথপুর ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নসহ ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে তীর রক্ষায় অস্থায়ী বেরিবাঁধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়। যে কাজ ধূলশুড়া ও গোপীনাথপুর এলাকায় এখনও চলমান। এছাড়াও চরাঞ্চলে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে চর রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকায় দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে টানা বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর ও গোপীপানথপুরে সদ্য নির্মিত পদ্মা তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে ধসে পড়ে পদ্মা তীর রক্ষার জিও ব্যাগ। এছাড়াও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কুশিয়ারচর এলাকায় আপদকালীন সময়ে ফেলা জিও ব্যাগও ধসে গেছে নদীতে। ফলে নতুন করে আতংক দেখা দিয়েছে পদ্মা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে।
রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নাজমুল হাসান বলেন, ভারি বর্ষণ আর দমকা হাওয়ায় রামকৃষ্ণপুর এলাকায় পদ্মাপাড়ের তীররক্ষা বাঁধের কয়েক জায়গায় জিও ব্যাগ ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত মেরামত করা না হলে আরও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কুশিয়ারচর গ্রামের শামীম গাজী জানান, দুই দিনের ঝড় আর টানা বৃষ্টিতে নদীর তীর রক্ষায় ফেলা জিও ব্যাগ ধসে গেছে। এছাড়াও মালুচী গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় এখনও জিও ব্যাগ পড়েনি। ওই এলাকায় প্রায় একমাস আগে থেকে জোয়ারের স্রোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই দুই দিনে আরও বেশি ভাঙছে। ১০-১৫ ফুট জায়গা নিয়ে চাপ ধরে ফসলি জমি ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত এখানে জিও ব্যাগ ফেলা না হলে এই এলাকাটুকু খুব তাড়াতাড়িই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন জানান, নদীতে নতুন জোয়ারের পানি আসছে। এতে নদীতে কিছুটা স্রোত হতে পারে। এর ওপর আবার ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাব। সবমিলিয়ে হয়তো বাঁধ ধসে যেতে পারে। তবে যেসব এলাকায় বাঁধ ধসে গেছে, সেসব এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


