মোঃ শামীম মিয়া,ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
আসন্ন ইরি ধানের মৌসুম কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানিকগঞ্জে কাজের সন্ধানে এসেছেন শ্রমিকেরা। ইরি ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও ধান কাটা শ্রমিক নিতে আসা বেশিরভাগ জমির মালিকগন তাদেরকে পারিশ্রমিক হিসেবে ন্যায্য মূল্য দিতে নারাজ।
বর্তমান ধান কাটার আধুনিক মেশিন তৈরি হওয়াতে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শ্রমিকেরা। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে কাজ করতে আসা শ্রমিকদের অবস্থা আরো শোচনীয় আকার ধারণ করেছে।
পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং রাজশাহী নাটোর জেলা থেকে কাজ করতে মনির, ফরহাদ ও খোকন বলেন, আজ ৭ দিন হয়ে গেছে আমরা ১৫/২০ জন লোক বাড়ি থেকে মানিকগঞ্জে কাজের উদ্দেশ্যে এসেছি ,কিন্তু কেউ কোন দাম দস্তর করে না। যে সকল খেরাস্ত আসে তারা আমাদেরকে ৩০০/৪০০ টাকা রোজ বলে। যা এ বাজারে খুবই সীমিত দাম। আমরা রাজি হলেও একটু পড়ে তাদেরকে আর পাওয়া যায় না।
বাড়ি থেকে আসার সময় যে টাকা সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম তা ৩ দিন আগেই শেষ হয়ে গেছে। আমাদের পরিবার আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে কোন সময় আমরা টাকা পাঠাবো। এ ছাড়া বাড়িতে কিস্তির টাকা পাবে সে জন্য তারা চাপ দিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের ও আমাদের পরিবারের অবস্থা খুব ভয়াবহ আকারে ধারন করবে।
এ ছাড়া গতকাল ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আমরা সবাই কষ্টে দিন পার করেছি। এখনো পর্যন্ত কোন তেমন কোন দানা পানি পেটে পড়েনি। আমারা সবাই খুব কষ্টে আছি। দিন যাচ্ছে আর কাজের লোকের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কাজের লোক নিতে আসা গেরাস্তদের তেমন কোন দেখা মিলছে না।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শ্রমিকদের ভীরে আমরা ভালোভাবে বেচাকেনার করতে পারি না। ভীরের কারণে অনেক সময় ওদের সাথে রাগ হয়। কিন্তু ওরাতো গরীব মানুষ মায়া লাগে। অনেক সময় টাকা না থাকায় আমাদের কাছ থেকে ওরা চেয়েচিন্তে খায়। কি আর করা। ওদের মধ্যে ভালো মন্দ সবই আছে। গেরাস্তরা যদি ন্যায্য মূল্য দিয়ে ওদেরকে নিয়ে যেত তাহলে এখানে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।


